Authors

হুমায়ূনআহমেদ (১৯৪৮-২০১২)

জন্ম নানাবাড়ি শেখবাড়ি, মোহনগঞ্জ। পৈত্রিক নিবাস কুতুবপুর, কেন্দুয়া, নেত্রকোনা।
পিতা শহীদ ফয়জুর রহমান আহমেদ। মাতা আয়েশা ফয়েজ আহমেদ। 
শৈশব কেটেছে সিলেটে। পিতার বদলীর চাকরীর সুবাদে ঘুড়ে বেড়িয়েছেন উত্তর থেকে দক্ষিণ বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রসায়ন শাস্ত্রে মাস্টার্স এর পর যুক্তরাষ্ট্র থেকে ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন। অধ্যাপনা করেছেন ময়মনসিংহ কৃষিবিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে।  নন্দিত নরকে আবির্ভাবের পর সাহিত্যের সকল শাখায় কলম চালিয়েছেন নিরলসভাবে। অর্জন করেছেন সকল বয়স ও শ্রেণীর পাঠকদের মধ্যে নজিরবিহীন জনপ্রিয়তা আর কিংবদন্তী মর্যাদা। ভূষিত হয়েছেন ২১শে পদক সহ অসংখ্য পুরস্কারে। তার রচনা অনুদিত হচ্ছে দেশে এবং বিদেশে।
নাটক আর চলচ্চিত্র অঙ্গনে তার অবদান যুক্ত করেছে এক নতুন অধ্যায়। তার সমুদ্র বিলাস, শহীদ স্মৃতি বিদ্যাপিঠ আর নুহাশপল্লী জাতীয় ঐতিহ্য বিবেচিত হওয়ার যোগ্য স্থাপনা।
কিংবদন্তী হুমায়ূন আহমেদ ২০১২ সালের ১৯ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রে ইন্তেকাল করেন, সমাহিত হয়েছেন নিজের অনুপম সৃষ্টি নুহাশপল্লীতে।

মুহম্মদ জাফর ইকবাল

জন্ম : ২৩ ডিসেম্বর ১৯৫২, সিলেট। বাবা মুক্তিযুদ্ধে শহীদ ফয়জুর রহমান আহমদ এবং মা আয়েশা আখতার খাতুন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞানের ছাত্র, পিএইচ ডিকরেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অফ ওয়াশিংটন থেকে। ক্যালিফোর্নিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি এবং বেল কমিউনিকেশান্স রিসার্চে বিজ্ঞানী হিসেবে কাজ করে সুদীর্ঘ আঠারবছর পর দেশে ফিরেএসেঅধ্যাপকহিসেবে যোগ দিয়েছেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে। স্ত্রী প্রফেসর ইয়াসমীন হক, পুত্র নাবিল এবং কন্যা ইয়েশিম।

আনিসুল হক

আনিসুলহকের জন্ম ৪ মার্চ ১৯৬৫, রংপুরের নীলফামারীতে। পিতা মরহুম
মো: মোফাজ্জল হক, মাতা মোসাম্মৎ আনোয়ারা বেগম। জন্মের পরেই পিতা কর্মসূত্রে তারা চলে আসেন রংপুরে। রংপুর পিটি আই সংলগ্ন পরীক্ষণ বিদ্যালয়, রংপুর জিলা স্কুল, রংপুর কারমাইকেল কলেজ আর বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকায় পড়াশোনা করেছেন তিনি। ছাত্রাবস্থা থেকেই সাহিত্য ও সাংবাদিকতার দিকে ঝুঁকে পড়েন। বিসিএস পরীক্ষা দিয়ে প্রকৌশলী হিসেবে একবার যোগ দিয়েছেন সরকারি চারিতে, কিন্তু ১৫ দিনের মাথায় আবার ফিরে আসেন সাংবাদিকতা তথা লেখালেখিতেই। বর্তমানে একটি প্রথম শ্রেণীর জাতয়ি দৈনিকে সহযোগী সম্পাদক হিসেবে কর্মরত।
সাহিত্যের প্রায় সব শাখাতেই কম বেশি তাঁর বিচরণ। কবিতা, গল্প, উপন্যাস, রম্যরচনা, কলাম, টেলিভিশন ও চলচ্চিত্রের চিত্রনাট্য, ভ্রমণকাহিনী, কাব্য-উপন্যাস, শিশুতোষ রচনা - নানাকিছু লিখেছেন। গদ্যকার্টুন
নামে লেখা তাঁর কলাম খুবই পাঠক প্রিয়।
মা ইংরেজিতে ‘ফ্রিডম’ সমাদার’ নামে অনূদিত ও দিল্লি থেকে প্রকাশিত হয়েছে এবং ব্যাপক প্রশংসা লাভ করেছে। উড়িষ্যা থেকেও ওডিশি ভাষায় বেরিয়েছে মা-এর অনুবাদ।
সাহিত্যের জন্যে পেয়েছেন বাংলা একাডেমী পুরস্কার, সিটি ব্যাংক আনন্দ আলো পুরস্কার, খালেকদাদ চৌধুরীপদক, খুলনা রাইটার্স ক্লাবপদক, কবি মোজাম্মেল হক ফাউন্ডেশন পুরস্কার, সুকান্ত পদক, ইউরো শিশু সাহিত্য পুরস্কার। তাঁর উপন্যাস মা পাঠক রেসরদার ফজলুল করিম তাঁর দিন লিপিতে লিখেলিছেন : ‘আমি বলি দুই মা। ম্যাক্সিম গোর্কির মা আর আনিসুলহকের মা।... এখন দুই মা যথার্থ মা হয়ে উঠেছেন আমার কাছে।

সুমন্ত আসলাম

গল্প বানানোর অদ্ভুত ক্ষমতা নিয়ে জন্মেছে যে ছেলেটা সে একদিন লেখক হবে এটা যেন খুব স্বাভাবিক। তাই বন্ধু সুমন্ত আসলামকে লেখক হিসেবে পেয়ে আমরা অবাক হইনা একটুও। কিন্তু লেখক হিসেবে অসম্ভব জনপ্রিয় এ মানুষটা যখন আজন্ম লালিত সরলতা নিয়ে এখনও আমাদের পাশে এসে বসে, হো হো করে হেসে ওঠে আমাদের সাথে গল্প-কথায় তখন অবাক হই একটু।
আরও অবাক হই যখন দেখি এই নিভৃতচারী মানুষটা খুব নিরবে, অনেকের অলক্ষ্যে করে যাচ্ছে কিছু সামাজিক কাজ। সমাজের কাছে দায়বদ্ধতার ভার যখন আমরা অনেকেই এড়িয়ে যেতে পারলেই বাঁচি, তখন সুহৃদ সুমন্ত কাঁধ পেতে দেয় কিছু সত্যিকারের দুঃখিমানুষের কষ্ট লাঘবের চেষ্টায়। তাই আমাদের বন্ধু হয়েও, আমাদের কাতারে থেকেও সুমন্তের স্থানহয় অসংখ্য মানুষের হৃদয়ের মণিকোঠায়।
লেখালেখির এক যুগ শেষে আমরা যখন খুলে বসি সুমন্তর চাওয়া-পাওয়ার হিসেবের খাতা, তখন ও মুচকি হেসেবলে, ‘কিছু অপূর্ণতা আছে হয়তো, কিন্তু প্রাপ্তিটা অনেক বেশী।’আমরা বিশ্বাস করি, লেখালেখির প্রতি ওর এই ভালোবাসা, আত্মবিশ্বাস আর তৃপ্তি ওকে অনেক অ-নে-ক দূর নিয়ে যাবে। এই বারো বছরে অনেক কিছু বদলেছে, বদলাইনি সুমন্তর সাপ্তাহিক কলাম ‘বাউন্ডুলে’ বারো বছরের অভিজ্ঞতায় উপন্যাসগুলো আরও বেশি সমৃদ্ধ।  কেবল দুঃখ একটাই নাটক লেখায় আজকাল ভীষণ রকম অনুপস্থিত সুমন্ত-যেখানে ওর মেধার স্বাক্ষর ইতিমধ্যেই প্রমাণিত। 
 
আমরা বন্ধুরা, ভীষণ ব্যস্ত এই মানুষটার অভাবে হতাশ হই মাঝেমাঝে, কখনও বা হই সমালোচনায় মুখর। সুমন্তকে ভাবায়না এসব। সুমন্ত তাঁর নিজের জগতেই বুঁদ-- অসংখ্য শব্দকে অর্থময়করে সাজানোর চেষ্টায়, নতুন লাগানো গাছটায় ফুল ফুটবার প্রতিক্ষায় কিংবা বাচ্চাদেরজন্য তৈরী করা লাইব্রেরীতে আরও কিছু নতুন বই যোগ করার চেষ্টায়।